![]() |
||||||||||||||||||
|
||||||||||||||||||
|
.:
Press Release:.
একজন ওবায়দুল কাদের - Daily Bangladesh Protidin - 24/08/2012
এবার ঈদের ছুটিতে ঘরমুখো কিংবা ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীদের চলাচল নিবিঘ্ন করতে পারায় সর্বস্তরের মানুষের কাছে প্রশংসিত হলেন যোগাযোগ ও রেলমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। লাখ লাখ মানুষের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে রাত দিন সশরীরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে রাস্তা-সারাই কিংবা রেল-বাসের টিকিট বেচাকেনা তদারকির মাধ্যমে দলমত নির্বিশেষে সবার মন জয় করেছেন মন্ত্রী। এই প্রথমবারের মতো ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের পথের দুর্ভোগ লাঘবে ক্লান্তিহীন পরিশ্রম করেন একজন মন্ত্রী। এর আগে তিনি যাত্রীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, মানুষের প্রত্যাশা হয়তো সবটা পূরণ করা যাবে না। তবে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমাদের আন্তরিকতার কমতি নেই। এবার সব আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে মোটামুটি দুর্ভোগহীন ঈদযাত্রায় গ্রামে ফিরেছেন লাখ লাখ মানুষ। যানজটের কষ্ট কিছুটা ছিল। ইঞ্জিনের লাইনচ্যুতিতে পশ্চিম রেলের সিডিউলও ছিল এলোমেলো। তবুও মন্ত্রী ঈদযাত্রার প্রতিটি সময় স্টেশনে-টার্মিনালে ঘুরে, মানুষের সঙ্গে রাস্তায় কাটিয়ে তাদের দুর্ভোগের সঙ্গী হয়েছেন। ঘরে ফেরা মানুষের আস্থার জায়গায় অবস্থান নিয়েছেন তিনি। যাত্রীরা বলেছেন, একজন উদ্যমী মন্ত্রী আমাদের সঙ্গে ছিলেন, এটাই আমাদের জন্য আনন্দের। পূর্বসূরি সৈয়দ আবুল হোসেন যেখানে গত বছর ঈদের সময় দুর্ভোগকবলিত মানুষের সমালোচনার শিকার হন সেখানে ওবায়দুল কাদেরের আন্তরিক উদ্যোগ ও তৎপরতা সাধারণ মানুষের মর্মমূলে ঠাঁই নিয়েছে। তারা মনে করছেন, মন্ত্রী সকাল-সন্ধ্যা রাস্তায় ছিলেন বলেই লাখো মানুষ প্রায় নির্বিঘ্নে বাড়ি যেতে পেরেছেন। মন্ত্রিত্ব উপভোগের নাকি উৎসর্গের সেটি এবার প্রমাণের সুযোগ পেলেন ওবায়দুল কাদের। সড়ক ও রেলপথ কার্যকর রাখতে নিজেকে যেন উৎসর্গই করেছিলেন তিনি। এখন মানুষের ঢাকা ফেরা নির্বিঘ্ন করতেও দিন রাত কাজ করছেন ওবায়দুল কাদের। গতকাল তিনি চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে রেলযাত্রীদের ঢাকা ফেরা তদারকি করেন। এ সময় তিনি সড়ক ও রেলপথ আগের চেয়ে ভালো দাবি করে বলেন, আমি কতটুক সফল বা ব্যর্থ সেটা নয়, বড় কথা হলো জনগণ কি ভাবছে, কি বলছে। জানা গেছে, ঈদযাত্রার অনেক আগে থেকেই সার্বক্ষণিক তদারকির মাধ্যমে যোগাযোগমন্ত্রী দেশের ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার কাজে নজর দেন। তিনি সড়ক বিভাগের ঊধর্্বতন কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল করে সড়ক মহাসড়ক মেরামতে নিয়োজিত রাখেন। পুরা কাজটি নিজেই মনিটরিং করেন। এই পর্যায়ে সড়ক ও রেল বিভাগের বিভিন্ন ইউনিট পরিদর্শনকালে তিনি দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে অনেককে বরখাস্ত, শোকজ ও বদলি করেন। এর ফলে সারা দেশে মন্ত্রীর কঠোর বার্তা চলে যায়। মন্ত্রীর মতো রেল ও সড়কের অনেক কর্মকর্তা ঈদের সময় সড়ক ও রেলযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে কাজ করেন। তাৎক্ষণিক পরিদর্শনকালে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ওবায়দুল কাদের রেলওয়ে এবং সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের ইঞ্জিনিয়ার ও অন্য কর্মীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেন। কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেন ঢাকা সড়ক বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, কুমিল্লা সওজ\'র তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুর ও ফেনী সওজ\'র নির্বাহী প্রকৌশলীকে। এ ছাড়া মন্ত্রী ময়মনসিংহে গিয়ে গফরগাঁও রেল স্টেশনের সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে শোকজ নোটিশ দেন। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চিফ ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারকে শোকজ ও বদলি করা হয়। ঢাকা বিভাগের ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারকে শোকজ করা হয়। ঢাকা বিভাগের সিনিয়র সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারকে (লাইট ও ফ্যান) সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। একই বিভাগের অ্যাটেন্ডেন্টকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। অন্যদিকে ঈদের পরদিন সওজ\'র খাগড়াছড়ির নির্বাহী প্রকৌশলীকে প্রত্যাহার এবং তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়। সূত্র জানায়, ঈদ শেষে ঢাকা ফেরা যাত্রীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতেও মন্ত্রী কাজ করছেন।
|
||||||||||||||||||
|